বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে এখনো সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করছেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো আমরা মনে করি বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে নির্বাচনটা করা দরকার। এখনো কিছু সময় আছে, যে সময়ের ভেতরে একটা অর্থবহ সংলাপ হতে পারে। কারণ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক।
এর আগে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারা।
ইনু বলেন, “আগামী ১০-১৫ দিন যে সময় আছে এর ভেতরে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সমাধান বের করা সম্ভব।”
সোমবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ১৫টি দলের ১১শ’র কিছু বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে না।
তফসিল ঘোষণার পর গত ২৬ নভেম্বর থেকে বিরোধী দলের দুই দফা টানা অবরোধে সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা চলছে; নিহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।
এই পরিস্থিতিতে আবারো সংলাপের তাগিদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ‘নির্ভরযোগ্য’ কাউকে মধ্যস্ততার দায়িত্ব দিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে ‘গঠনমূলক সংলাপ’ অনুষ্ঠান এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এককালীন কোনো সমাধান এবং পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে কোনো হট্টগোল হৈ চৈ করা ঠিক নয়। একটা স্থায়ী সমাধান গড়ে তোলা দরকার।”
আর এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একমত বলেও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
“বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একটি স্থায়ী সমাধানের পক্ষে যাতে নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে।”
বৈঠকে ‘অর্থবহ’ আলোচনার মাধ্যমে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য পথ বের করার তাগিদ দেন ড্যান মজীনা।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এখনো সময় আছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের মধ্য দিয়ে স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার।”
খালেদা জিয়ার ‘জঙ্গিবাদের সঙ্গ ত্যাগ, নাশকতা ও সন্ত্রাসের পথ পরিহার করা’ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলমান সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় যেন ছেদ না ঘটে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধু। তারা আমাদের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রক্রিয়া যেন অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন এবং আমাদের পাশে দাঁড়াবেন।
“আমরা মনে করি গণতান্ত্রিক শক্তি এবং অগণতান্ত্রিক শক্তিকে এক পাল্লায় মাপা হলে অগণতান্ত্রিক শক্তি উৎসাহিত হয়।”
সম্প্রচার কার্ক্রম স্থগিত থাকা দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন এবং বন্ধ করে দেয়া আমার দেশ পত্রিকা নিয়ে মজীনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইনু বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং আইসিটি আইন নিয়ে কথা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ সফরের বিষয়কে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের সুবর্ণ সুযোগ বলে আখ্যায়িত করেন মজীনা।
তিনি বলেন, “এই সুযোগ কাজে লাগালে অর্থবহ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”
এর আগে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন বলে জানান না।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষের সহিংসতাই গ্রহণযোগ্য নয়, সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পথ বের করার বিষয়ে নিশা তাগিদ দিয়েছেন।
আগামী ২৪ জানুয়রি পর্যন্ত এই সরকারের মেয়াদ রয়েছে উল্লেখ করে মজীনা বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রধান রাজনৈতিক দল এবং যারা ক্ষমতায় আছে তারা যেন অর্থবহ সংলাপের আয়োজন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করে।”

0 comments:
Post a Comment